32000 Teachers Cancellation:গত ২০২৩ সালের ১২ই মে তমলুকের বিজেপি সংসদ ও প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিল করেছিলেন। সত্যিই কি এই রায় সঠিক ছিল? অনেক প্রথম সারির সংবাদ মাধ্যম ও youtube চ্যানেল ভাইরাল হবার জন্য লাইভ সম্প্রচারের উল্টো তথ্য জনগণের কাছে প্রতিস্থাপন করে যাচ্ছে কিনা,তা নিয়ে অনেক বিতর্ক উঠে এসেছে।আসুন সঠিক তথ্য জেনে নিন।
২০২৩,১২ই মে উপরের রায়ের পর চাকরিহারারা ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করার পর ওই রায়ের ওপর আংশিক স্থগিতাদেশ পড়ে এই মর্মে যে “natural justice” না মেনে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এই রায় দিয়েছেন।এরপর চাকরিচ্যুত শিক্ষক-শিক্ষিকারা সুপ্রিম কোর্টে গেলে এই রায়কে সম্পূর্ণ বাতিল করেন এবং পুনরায় ওই মামলা টি কলকাতা হাইকোর্টে পাঠান পুনরায় শোনার জন্য।বর্তমানে মামলাটি বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি রিতব্রত কুমার মিত্রের এজলাসে শুনানী চলছে।রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি হয়েছে এবিষয়ে কোনো দ্বিধা নেই কিন্তু কিছু আইন বিশেষজ্ঞ দের মতে এবং শুনানীর লাইভ সম্প্রচারের তথ্য থেকে সঠিক বিষয়গুলি ইনফো বাংলা হাবের তরফ থেকে তুলে ধরা হলো।
32000 Teachers Cancellation: কোর্টে উঠে এল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত প্রশ্ন
কলকাতা হাইকোর্টে মহামান্য বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ও ঋতব্রত কুমার মিত্রের এজলাসে টানা শুনানি হচ্ছে এই মামলার সেখানে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে,তমলুকের বিজেপি সাংসদ প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এর এই বিচার পক্রিয়া যে অনেকটা অনুমানের উপর নির্ভর করে রায় দিয়েছেন সেইসব তথ্য উঠে এসেছে সওয়াল জবাবে।কি কি তথ্য এসেছে তা দেখে নেই চলুন।
১. ২০১৬ প্রাথমিক নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ অনুপস্থিত:32000 Teachers Cancellation
যদিও ২০১৪ টেট নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে ও তদন্ত চলছে, কিন্তু ২০১৬ প্রাথমিক নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা দুর্নীতির প্রমাণ আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।CBI SSC শিক্ষক নিয়োগ ও গ্রূপ C ও গ্রূপ D নিয়োগ নিয়ে ও প্রাথমিক নিয়োগে অন্য নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ প্রমাণিত হলেও ২০১৬ এর একজন শিক্ষক-শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারেনি,প্রমান তো দূরের কথা,এই সব তথ্য শুনানিতে উঠে এসেছে।
২. গাফিলতি হয়তো হয়েছে, দুর্নীতি নয়:32000 Teachers Cancellation
বিচারপতি নিজেও অর্ডার কপিতে কোনো দুর্নীতির প্রমাণ দেখাতে পারেননি। রুল বা প্রসেসে কিছু গাফিলতির ইঙ্গিত মিললেও তা দুর্নীতি নয় বলে মনে করা হচ্ছে।
৩. একতরফা রায় নিয়ে প্রশ্ন:
প্রথমে ৩৬,০০০ শিক্ষক-শিক্ষিকা বাতিল সংখ্যা থেকে ৩২,০০০ সংখ্যা কীভাবে হল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।কোনো রায়ের মডিফিকেশন আবেদন ছাড়াই শুধু পিটিসনার দের আইনজীবী র মৌখিক আবেদনে রায়ে সংখ্যার পরিবর্তন। কোনও ক্রস আর্গুমেন্ট ছাড়াই শুধুমাত্র পিটিশনারদের বক্তব্যের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।শুধুমাত্র পিটিশনার দের কথার উপর ভিত্তি করে ৩৬০০০ পরে ৩২০০০ হয়ে যায় কোনো ক্রস আর্গুমেন্ট ছাড়া।এটা পিটিশনার দের প্রতি বিচারকের বিশ্বাস হতে পারে কিন্তু সেটা সঠিক বিচার নয়।32000 শিক্ষক বাতিল মামলা
৪. কাট অফ নম্বরে পরিবর্তন,অদ্ভুত সিদ্ধান্ত:
সর্বশেষ কাট অফ মার্কস ১৪ এর পরিবর্তে ১৩ করা হলো শুধুমাত্র পিটিশনার দের কথার উপর ভিত্তি করে।বলা হলো টাইপিং মিস্টেক।এভাবে কোর্ট কখনো কোনো কিছুকে উপযুক্ত প্রমান ছাড়া শুধু মাত্র মুখের কথার উপর ভিত্তি করে মডিফিকেশন করতে পারে না। এটা catastrophic judgement এর আন্ডার এ পরে।এটা পুরোপুরি অনৈতিক এবং অবৈধ।
৫. Aptitude টেস্ট হয়েছে – ভুল তথ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত:
Aptitude টেস্ট হয়েছে এবং সবাই কম বেশি no পেয়েছে। শুধু মাত্র ৫ টি জেলার প্রতিনিধি দের ডেকে জিজ্ঞাসা করে ঠিক করা হয়েছে যে aptitude টেস্ট হয়নি। বাকি জেলার প্রতিনিধি দের কেন ডাকা হলো না।সুপ্রিম কোর্টের অর্ডার আছে এভাবে কয়েকটি দেখে সার্বিক রায় দেওয়া যায় না।
৬. নম্বরের স্বাভাবিক বৈচিত্র্য
একাডেমিক no এর সাথে ইন্টারভিউ ও aptitude টেস্ট কোনোদিন ই সরল সম্পর্কে আসতে পারে না।অনেকে আছেন যাদের একাডেমিক ভালো কিন্তু ইন্টারভিউ ও aptitude এ no কম পেয়েছে তেমনি অনেকে আছেন যাদের একাডেমিক খারাপ কিন্তু ইন্টারভিউ ও aptitude এ ভালো নম্বর পেয়েছে।পিটিশনার দের মধ্যেই ৩ জন এমন আছেন যারা একাডেমিক নাম্বার এর তুলনায় ইন্টারভিউ ও aptitude টেস্ট এ প্রায় ফুল মার্কস এর কাছাকাছি নাম্বার পেয়েছে।
৭. ক্যাটাগরি সংক্রান্ত অভিযোগের কোনো প্রভাব নেই:
ক্যাটাগরি মানা হয়নি বলে যে অভিযোগ রয়েছে সেটিও পিটিশনার দের কোথাও ইফেক্ট করেনি।যারা পিটিশনার আছেন তারা সকলেই জেলা ভিত্তিক ক্যাটাগরির নিচে আছেন।
৮. ২০১২ টেট মামলা খারিজ হলে ২০১৬ টেট আলাদা কেন?
২০১২ টেট কে ভিত্তি করে ৫ বছর পর একই বিষয়ে মামলা হয়। কিন্তু সমাজে শিক্ষার উপর সার্বিক প্রভাব পড়ার আশঙ্কাই সেই মামলা খারিজ করা হয়।যদি সেটা খারিজ করা যায় তাহলে ২০১৬ টেট ব্যতিক্রম কেন? একই গ্রাউন্ড এর উপর দুরকম বিচার কেন?

৯. স্পাইরাল বাইন্ডিং ডকুমেন্টের গ্রহণযোগ্যতা:
যে স্পাইরাল বাইন্ডিং কোর্ট কে দেওয়া হয়েছে সেটি কোনো কোর্ট বা পর্ষদ দারা সার্টিফায়েড নয়। এমনকি শুনানির মাঝে হঠাৎ করে এটি সাবমিট করা হয় কোনো পার্টি কে না দিয়ে না জানিয়ে। তাই এর সত্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা কতটা টা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।
১০. অন্য নিয়োগে দুর্নীতির প্রসঙ্গ অপ্রাসঙ্গিক:
কে প্রেসিডেন্ট কোথায় কোন নিয়োগ এর জন্য এরেস্ট হলো তা এখানে যুক্ত করা যায় না। এমনকি ED ও বলেনি যে তিনি ২০১৬ সিলেকশন প্রসেসের জন্য এরেস্ট হয়েছেন। তাই অন্য কোনো নিয়োগে দুর্নীতি হলে সেটাকে এখানে যুক্ত করে দেখা উচিত নয়।
১১. Catastrophic Judgment-এর অভিযোগ:
সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট টি হলো catastrophic judgement। শুধুমাত্র writ পিটিশনার দের দেওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে রায় দেওয়া, কোনো রকম ক্রস এক্সামিনেশন না করে।আর law কে follow না করে জাজমেন্ট দেওয়া কখনোই করা যায় না,সুপ্রিম কোর্ট এর অর্ডার আছে।
১২.শুধুমাত্র পিটিশনার দের গুরুত্ব দেওয়া:
165বি তে কিছু writ পিটিশনার যাদের একাডেমিক একটু ভালো তাদের জিজ্ঞেস করে জানতে চাইলেন যে aptitude হয়েছে কি না,কিন্তু in service শিক্ষক শিক্ষিকা কাউকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন না যে aptitude test হয়েছে কি না।এর থেকেই বোঝা যায় তিনি কাদের বেশি গুরুত্ব দিলেন,কিন্তু আইন সবার জন্য সমান,এটা সব আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন।
এই মামলার পরবর্তী শুনানি ৭ই জুলাই ২০২৫ অর্থাৎ আগামী সোমবার ।এই মামলার রায় নিয়ে এখনো অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে। আইনজ্ঞরা মনে করছেন, “catastrophic judgment” ও “একতরফা শুনানি”-র মতো অভিযোগ এই মামলার ভবিষ্যৎকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এখন দেখার বিষয় এই মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ কোন দিকে এগোয় তার খবর আমাদের ইনফো বাংলা হাব কে ফলো করুন।
আরও পড়ুন।










