WB GOVT New Rule 2025:জন্ম সার্টিফিকেট বানানোর ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকার আরো কড়া নিয়ম জারি করেছে ।পশ্চিমবঙ্গ সরকার জন্ম সার্টিফিকেট ইস্যু করার ক্ষেত্রে নতুন কিছু নিয়ম করেছেন যেগুলি অসৎ উপায়ে জন্ম সার্টিফিকেট বানানো অনেকটা কমাতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গের নানান দুর্নীতির মধ্যে জন্ম সার্টিফিকেট একটি নতুন দুর্নীতি। যদিও একটা নতুন ধরনের কোন দুর্নীতি নয় পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেই চলছে।অবৈধ বাংলাদেশিরা অবৈধ উপায়ে জন্ম সার্টিফিকেট বানিয়ে ভোটার কার্ড করে এদেশে নানান সন্ত্রাসমূলক কাজ করছেন। তাই পশ্চিমবঙ্গ সরকার জন্ম সার্টিফিকেট বানানোর ক্ষেত্রে আরও কড়া মনোভাব দেখিয়েছেন। আগে জন্ম সার্টিফিকেট বানানো খুব সহজ ছিল কিন্তু এখন অনেক কয়েকটি ধাপ পেরানোর পর জন্ম সার্টিফিকেট ইস্যু করা হবে এই সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছেন।
কি কি নতুন নিয়ম জারি করেছেন রাজ্য সরকার:
আগে জন্ম সার্টিফিকেট বানানো ক্ষেত্রে গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ক্ষেত্রে গ্রাম প্রধান ও শহরের ক্ষেত্রে পৌর সভার প্রধান এর সই হলেই জন্ম সার্টিফিকেট বানানো যেত। কিন্তু বর্তমানে দুর্নীতির রোখার জন্য রাজ্য সরকার নতুন কিছু নিয়ম এনেছেন। যেগুলি নিচে দেওয়া হল।
- অনলাইন পোর্টালের উপর জোর:
আগে জন্ম সার্টিফিকেটের আবেদন করতে গেলে হাতে লিখে দরখাস্ত জমা দিলে ইস্যু করে দেওয়া হতো কিন্তু নতুন নিয়ম আসার পর জন্ম সার্টিফিকেট আবেদনের জন্য সর্বপ্রথম “janma-mrityu tathya”অনলাইন পোর্টালে আবেদন করতে হবে। এই নিয়ম করার কারণ এই আবেদন করতে গেলে অনলাইনে বাবা-মায়ের আধার কার্ড জমা করতে হবে।

- ব্লক স্বাস্থ্য অধিকর্তা(BMOH) এর অনুমোদন বাধ্যতামূলক:
ব্লক মেডিকেল অফিসার অফ হেলথ এর অনুমোদন ছাড়া আর জন্ম সার্টিফিকেট ইস্যু করা হবে না। এক্ষেত্রে অনলাইন পোর্টাল থেকে তথ্য ব্লক স্বাস্থ্য অধিকর্তার কাছে জমা হলে উনি সরজমিনে ভেরিফিকেশনের জন্য ওই এলাকার আশা কর্মীকে আবেদনকারীর বাড়ি গিয়ে স্বচক্ষে যাচাই করে সেই রিপোর্ট ব্লক স্বাস্থ্য অধিকর্তা কে জমা করবেন। ব্লক স্বাস্থ্য অধিকর্তা ওই রিপোর্টে সন্তুষ্ট হলে তবেই এই জন্ম সার্টিফিকেট ইস্যু করা হবে
- আশা কর্মীদের সরজমিনে যাচাই
দুর্নীতির রোখার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হলো আশা কর্মীদের সরজমিনে যাচাই করা। আশা কর্মীরা নির্দিষ্ট এলাকার সকল জন্মের খোঁজ রাখেন যেহেতু ওনারা কোন সন্তান জন্মের আগে থেকে ওই মায়ের খোঁজ রাখেন। সেহেতু উনারা খুব ভালো করে এলাকার সম্বন্ধে অবগত থাকেন অতএব এক্ষেত্রে দুর্নীতির অনেকাংশেই সুবিধা হবে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
নতুন নিয়মের কারণ
নতুন নিয়মের কারণ পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিগত কিছুদিন লক্ষ্য করছেন যে কিছু ভুয়ো জন্ম সার্টিফিকেট দেখিয়ে ভোটার কার্ড বানিয়ে বাংলাদেশীরা এদেশে অবৈধভাবে রয়েছেন। পাঠানখালী বলে একটি গ্রামে একটি বড় রকম এই ধরনের দুর্নীতি সরকারের চোখ খুলে দিয়েছে। তাই জন্ম সার্টিফিকেট প্রদান করার ক্ষেত্রে সরকার এই নিয়ম আনতে বাধ্য হয়েছে।
কি কি নির্দেশ জনগণকে খেয়াল রাখতে হবে জন্ম সার্টিফিকেট বানানোর সময়:
সন্তান জন্মের পর হসপিটাল বা নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ জন্ম সার্টিফিকেট আবেদন করে দেন। কিন্তু পিতা মাতাকে সজাগ থাকতে হবে যেহেতু নতুন নিয়ম হয়েছে সেক্ষেত্রে হসপিটাল বা নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ ঠিকঠাকভাবে আবেদন করছেন কিনা তা নজর রাখতে হবে। এরপর যখন আশা কর্মীরা ভেরিফিকেশনের জন্য আসবেন, তখন তাদের সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে । এক্ষেত্রে যদি ভুল তথ্য দেন বা কোন তথ্য গোপন করেন সে ক্ষেত্রে জন্ম সার্টিফিকেট ইস্যু করার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে পারেন।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জন্ম সার্টিফিকেট অনলাইন পোর্টাল নীচে দেওয়া হলো
আরও পড়ুন
ভারতীয় বায়ু সেনায় অগ্নিপথ প্রকল্পে আগ্নিবীর বায়ু পদে নিয়োগ উচ্চমাধ্যমিক পাশে।শীঘ্রই আবেদন করুন।










